শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে সব পুষ্টি উপাদান (আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) সুষম খাদ্য থেকে পাওয়া যায়। এই পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই দেহের সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্য প্রয়োজন।
শক্তির উৎস বলতে আমরা কোন ধরনের খাবার থেকে কেমন শক্তি পাই তাকে বোঝায়। যে খাবারে বেশি কিলোক্যালরি আছে তাতে খাদ্য শক্তি বেশি আছে। কম কিলোক্যালরিসম্পন্ন খাবারে কম খাদ্য শক্তি আছে।
কোনো খাদ্যের কিলোক্যালরি বেশি হলে বোঝা যায় যে সেই খাদ্যে খাদ্যশক্তি বেশি আছে। তেল, ঘি, ভাজা খাবার, চিনি, গুড় ও মিষ্টি এবং মিষ্টিজাতীয় খাবারে বেশি কিলোক্যালরি আছে। অর্থাৎ এইসব খাবারে খাদ্যশক্তি বেশি আছে।
কিলোক্যালরি: খাদ্যের শক্তি পরিমাপের একককে কিলোক্যালরি বলা হয়।
সুষম খাদ্য: দৈনন্দিন খাবারে দেহের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকটা পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে তখন তাকে সুষম খাদ্য বলে।
খাদ্য পিরামিড' হচ্ছে এমন একটা নির্দেশিকা বা গাইড যার দ্বারা কোন ধরনের খাদ্য কী পরিমাণে খাওয়া উচিত তা চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এক কথায় বলা যায় যে, খাদ্য পিরামিড থেকে কোন ধরনের খাবার কতটুকু পরিমাণে গ্রহণ করলে খাদ্য সুষম হবে তার ধারণা পাওয়া যায়।
কৈশোরকালীন সময়ে শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে ফলে পুষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২-১৫ বছর বয়সে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১০-১৩ বছর বয়সে পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। কৈশোরে বর্ধনের গতি বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের চাহিদা বাড়ে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযে খাবারে দেহের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকটা পুষ্টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে তাই সুষম খাদ্য।
খাদ্য পিরামিড বলতে বোঝায় একটা নির্দেশিকা। যার দ্বারা কোন ধরনের খাদ্য কী পরিমাণে খাওয়া উচিত তা চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ কোন ধরনের খাবার কতটুকু পরিমাণে গ্রহণ করলে খাদ্য। সুষম হবে তার ধারণা পাওয়া যায় এই পিরামিড থেকে।
৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া সুমার দৈনিক খাদ্যাভ্যাস থেকে ধারণা পাওয়া যায় তার শারীরিক গঠন ভালো এবং সে সুস্থ। খাদ্যের কোনো একটি উপাদান বাদ পড়লে খাদ্য সুষম হয় না।
সুমা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ছয়টি পুষ্টি উপাদান যথাঃ শর্করা, আমিষ, স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি গ্রহণ করে। অর্থাৎ সে সুষম খাদ্য গ্রহণ করে। ফলে তার পুষ্টি চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ হচ্ছে। তাই তার শারীরিক গঠন হবে সুস্থ-সবল, কর্মঠ ও প্রাণবন্ত। সুমার কৈশোরকালীন শারীরিক বৃদ্ধির কারণে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে তার বর্ধন ভালো হবে। এমনকি তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
কণার খাদ্যাভ্যাস তার সুস্থ দৈহিক বর্ধনে সহায়ক নয়। কারণ সে সুষম খাদ্য গ্রহণ করে না।
কণা একজন কিশোরী। এ বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্রুত গতিতে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। ফলে সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময় প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। শুধু একটি বা দুটি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করলে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই ছয়টি উপাদানই পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা দরকার। এ সময় আমিষের ঘাটতি হলে বর্ধন ব্যাহত হয়। আবার হাড়ের এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও জিংক প্রয়োজন। এছাড়া রক্ত গঠনের জন্য লৌহ প্রয়োজন। কিন্তু কণার খাদ্যাভ্যাস থেকে দেখা যায় তার খাদ্য তালিকায় মাছ মাংসের পরিমাণ কম ও দুধ নেই। এসব কারণে তার খাদ্য সুষম হয় না এবং দেহের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে। তাই তার দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। সুতরাং, কণার খাদ্যাভ্যাস তার সুষ্ঠু বর্ধনের জন্য যথেষ্ট নয়।
সাধারণত বয়স, পরিশ্রমের প্রকৃতি ও লিঙ্গভেদে শক্তির চাহিদায় তারতম্য ঘটে।
কৈশোরকালীন সময়ে ছেলেমেয়েরা বেশি পরিশ্রম ও খেলাধুলা করে। তাই তাদের, খাদ্য শক্তির চাহিদা বেশি হয়। শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৈশোরে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!